তানযীহুল মাকানাতিল হাইদারীয়্যাহ আন ওয়াসমাতি আহদ আল জাহিলিয়্যাহ
(জাহিলিয়্যাতের অপবাদ থেকে মাওলা আলী ইবনে আবি ত্বালিব রাঃ এর স্থান ও মর্যাদা এর পবিত্রতা সম্পর্কে একটি বিবৃতি)
মূল : আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান বেরলভী হানাফী
বাংলা অনুবাদ : শেখ আহসান উদ্দিন, পুরান ঢাকা নিবাসী। শিক্ষার্থী, বিবিএ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বিআইইউ, ঢাকা
کندی گڑھ ٹولہ مسجد بی بی راجی شفاخانه مرسله مولوی حکیم عبد الغفور صاحب جمادی الاخری ۱۳۱۲ھ بخدمت لازم البرکت جامع معقول و منقول عادی فروع و اصول ، جناب مولینا مولوی احمد رضا خان صاحب مد اللہ فیضانه ) اللہ تعالیٰ آپ کا فیضان ہمیشہ جاری رکھے۔ ت) از جانب خادم الطلبه عبد الغفور سلام علیک قبول باد ، اس مسئلہ میں یہاں درمیان علماء کے اختلاف ہے لہذا مسئلہ ارسال خدمت لازم البرکت ہے امید کہ جواب سے مطلع فرمائیں ۔ - زید کہتا ہے کہ جناب علی مرتضی کرم اللہ تعالیٰ وجہہ چونکہ قبل از بلوغ ایمان لائے اور نہ پہلے بت پرستی شرک و کفر و غیرہ کے آپ مبتلا ہوئے نیز بلحاظ حدیث شریف : كل مولود يولد على الفطرة. (بچہ فطرت اسلام پر پیدا ہوتا ہے)
(ت) یہ کہنا کہ آپ پہلے کافر تھے بعد ازاں مسلمان ہوئے صحیح نہیں، اور جملہ مذکور بہ نسبت آپ کے سوئے ادب میں داخل ہے ۔ عمرو کہتا ہے چونکہ اطفال تابع والدین کے ہوتے ہیں اور والدین آپ کے حالت کفر پر تھے ، لہذا ہم کہہ سکتے ہیں کہ پہلے علی مرتضیٰ کا فر تھے بعد ازاں مسلمان ہوئے فقط ۔ اس صورت میں زید کا قول صحیح ہے یا عمرو کا ؟ بَيِّنُوا تُوجَرُوا ( بیان فرمائیے اجر دے جاؤ گے ۔ ت)
মাসআলা ১৯ : বেনারসের কান্দিগড়ের টোলা মসজিদ বিবি রাজি হাসপাতাল থেকে মৌলভী আব্দুল হাকিম গফুর সাহেব কর্তৃক ১৩১২ হিজরীর জামাদিউল আউয়াল মাসে প্রেরিত বা খিদমতে লাজিমুল বারাকাত লাযিমুল বারাকাত, জামে‘ মাকূল ও মানকূল, আদী-এ ফুরু‘ ও উসূল, আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান বেরলভী এর নিকট এই প্রশ্ন প্রেরণ করেন। তালিবে ইলমদের খাদিম আবদুল গফূরের পক্ষ থেকে সালাম নিবেন।
এই মাসআলায় আলেম উলামাদের মধ্যে ইখতিলাফ বা মতভেদ আছে। তাই এই প্রশ্নটি আপনার বরকতময় দরবারে পেশ করা হলো। আশা করি উত্তর দিয়ে অবহিত করবেন । যায়েদ বলে যে " হযরত মাওলা আলী মুরতযা (কাঃ) যেহেতু বালেগ হওয়ার পূর্বেই ঈমান গ্রহণ করেছেন। তিনি পূর্বে কখনও মূর্তিপূজা, শিরক, কুফর ইত্যাদিতে লিপ্ত হননি। হাদিস শরীফে এসেছে
كل مولود يولد على الفطرة.
(“কুল্লু মাওলূদিন ইউলাদু ‘আলাল ফিতরাহ।”) বা প্রত্যেক শিশু / সন্তানই ইসলামী ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে (সহীহ বুখারী ও সুনানে আবু দাউদ) । তাই এ কথা বলা যে " তিনি আগে কাফির বা অবিশ্বাসী ছিলেন পরে তিনি মুসলিম হয়েছেন " এ বাক্যটি সহীহ নয় এবং এই বাক্য তাঁর শানে বেয়াদবীর শামিল ও অন্তর্ভুক্ত। আর আমর বলে, যেহেতু শিশুরা তাদের পিতা-মাতার অনুসারী গণ্য হয়, এবং তাঁর পিতা-মাতা তখন কুফরের অবস্থায় ছিলেন, তাই আমরা বলতে পারি যে, “আগে আলী মুরতাযা কাফির ছিলেন, পরে মুসলমান হয়েছেন”— শুধু এই অর্থে।এ অবস্থায় যায়েদের কথা সহীহ, নাকি আমরের ?
“আপনারা ব্যাখ্যা করুন, আল্লাহ আপনাদের প্রতিদান দেবেন।”
الجواب
بسم الله الرحمن الرحيم ، الحمد لله الذي كرم وجه على المرتضى : فلم يزل محظوظا منه بعين الرضى والصلوة والسلام على السيد العلى الهضى الارضى : شفیع المذنبين يوم فصل القضاء و على اله وصحبه بعدد كل من یاتی و مضى : قول زید حتی و صحیح قول عمرو باطل وقیع ہے ۔ اقول وباللہ التوفیق ( میں کہتا ہوں اور توفیق اللہ تعالیٰ سے ہے ۔ ت) یہ تو ظاہر و معلوم و ثابت ہے کہ حضرت امیر المومنین مولی المسلمین سیدنا علی مرتضی کرم الله وجهه الاسنی وقت بعثت سرا پا برکت حضور پر تو رسید المرسلین صلے اللہ تعالی علیہ وسلم فورا مشرف بتصدیق و ایمان ہے ہوئے اس وقت عمر مبارک حضرت مرتضوی آٹھ دس سال تھی اور بالیقین جو عاقل بچہ اسلام لائے حکم اسلام میں مستقل بالذات ہے پھر کسی کی تبعیت سے اس پر حکم دیگر حلال نہیں۔
উত্তর :
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হযরত মুরতাযা (আলী রা.)-এর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করেছেন; অতঃপর তিনি সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে সৌভাগ্যমণ্ডিত ছিলেন।এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান পথপ্রদর্শক ও মনোনীত নেতা-প্রভুর উপর, যিনি বিচার দিবসে গুনাহগারদের সুপারিশকারী। আর তাঁর পরিবারবর্গ আহলে বায়ত ও সাহাবীগণের উপরও— অতীত ও ভবিষ্যতে আগমনকারী সকলের সংখ্যার সমপরিমাণ।
যায়েদের উক্তি সঠিক বা সহীহ আর আমরের উক্তি বাতিল। আমি বলছি, আর তাওফীক আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই।
এ কথা সুস্পষ্ট, জানা ও প্রমাণিত যে, আমীরুল মুমিনীন, মুসলমানদের নেতা, আমাদের প্রভু হযরত আলী মুরতাযা (আল্লাহ তাঁর সম্মানিত মুখমণ্ডলকে আরও মর্যাদাবান করুন), যখন বরকতময় নবুয়তের সূচনাকালে নূরের উৎস, সকল রাসূলের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হন, তখনই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঈমান ও সত্যায়নের সৌভাগ্যে ধন্য হন।
সে সময় হযরত মুরতাযার মুবারক বয়স ছিল আট বা দশ বছর। আর নিশ্চিতভাবেই যখন কোনো বুদ্ধিমান শিশু ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের বিধান তার নিজের সত্তাগতভাবেই প্রতিষ্ঠিত। অতএব অন্য কারো অনুসারী হওয়ার কারণে তার উপর ভিন্ন কোনো বিধান আরোপ করা বৈধ নয়।
মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াতে রয়েছে—
> كان سنُّ عليٍّ رضي الله تعالى عنه إذ ذاك عشرَ سنين، فيما حكاه الطبري.
“তখন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বয়স ছিল দশ বছর”— যেমনটি তাবারী বর্ণনা করেছেন।
আর মুহাম্মদ যুরক্বানী বলেছেন—
> وهو قولُ ابنِ إسحاق، واقتصر المصنِّف عليه لقول الحافظ إنه أرجح الأقوال.
“এটিই ইবন ইসহাকের বক্তব্য। আর গ্রন্থকার কেবল এই মতটিই উল্লেখ করেছেন, কারণ হাফিজ ইবন হাজার বলেছেন যে, মতগুলোর মধ্যে এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত।”
আর ইবন সুফইয়ান সহীহ সনদে হযরত উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন—
> روى ابنُ سفيان بإسنادٍ صحيحٍ عن عروة قال: أسلم عليٌّ وهو ابنُ ثمانِ سنين.
“হযরত আলী আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।”
এবং উয়ুনুল আত্বহার গ্রন্থেও প্রথমে এই মতটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
আর রাদ্দুল মুহতারে রয়েছে—
> قوله: وسنُّه سبعٌ، وقيل ثمانٌ وهو الصحيح، وأخرجه البخاريُّ في تاريخه عن عروة، وقيل عشرٌ أخرجه الحاكم في المستدرك، وقيل خمسَ عشرةَ وهو مردود.
“কেউ বলেছেন তাঁর বয়স ছিল সাত বছর। আবার বলা হয়েছে আট বছর— আর এটাই সহীহ মত। ইমাম বুখারী তাঁর ‘তারীখ’ গ্রন্থে হযরত উরওয়া থেকে এটিই বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে দশ বছর; এটিকে হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ বর্ণনা করেছেন। আর বলা হয়েছে পনেরো বছর— কিন্তু এ মতটি প্রত্যাখ্যাত।”
এ বিষয়ে পূর্ণ আলোচনা ফাতহুল ক্বাদীর কিতাবে বিস্তৃতভাবে উল্লেখ রয়েছে।
وفي نكاحه عن احكام الصغار للاستروسنى انه قبل البلوغ تبع لابويه في الدين ما لم یصف الاسلام قال : فافاد ان التبعية لا تنقطع الا بالبلوغ او بالاسلام بنفسه و به صرح في البحر والمنح من باب الجنائز ا
আর রাদ্দুল মুহতার-এর “নিকাহ” অধ্যায়ে *আহকামুস সিগার* থেকে বর্ণিত হয়েছে—
“শিশু বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ধর্মের ক্ষেত্রে তার পিতা-মাতার অনুসারী গণ্য হবে— যতক্ষণ না সে নিজে ইসলামকে বর্ণনা ও উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।”
এরপর তিনি বলেন—
“এ থেকে জানা গেল যে, এই অনুসারিতা কেবল বালেগ হওয়ার মাধ্যমে অথবা নিজে ইসলাম গ্রহণ করার মাধ্যমেই শেষ হয়।”
এবং আল মিনাহতেও “জানাযা” অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে এ কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ অধ্যায়), দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত সংস্করণ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৪)
---
- ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء عه ولفظه : و ولفظه : ولا تزول التبعية الى البلوغ ، نعم تزول التبعية اذا اعتقد دینا غیر دین ابويه اذا عقل الاديات فحينئذ صار مستقلاً
অতএব নবুওয়তের আবির্ভাবের পর তো এই নিকৃষ্ট ধারণার কোনো অবস্থাতেই অবকাশ নেই। বরং তারও পূর্বে, যখন মক্কায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল এবং আবু তালিব অর্থকষ্টে পড়েছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের বোঝা হালকা করার জন্য আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী কররামাল্লাহু তাআলা ওয়াজহাহুকে নিজের ঈমান-আশ্রয়ী গৃহে নিয়ে আসেন— যেমনটি ইবন ইসহাক তাঁর সীরাতে উল্লেখ করেছেন। (সীরাতে ইবনে হিশাম, দারুল ইবনে কাসীর বৈরুত,লেবানন প্রকাশিত খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬২)
হযরত আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হন। তিনি নবীজীর কোলে মানুষ হন, তাঁরই ঘরে জ্ঞান-বুদ্ধি বিকশিত হয়। চোখ খোলার পর থেকেই তিনি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরময় চেহারা দেখেছেন, তাঁরই কথা শুনেছেন, তাঁরই অভ্যাস ও চরিত্র শিক্ষা করেছেন।
অতএব যখন থেকেই এই মহান মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের জ্ঞান-বোধ হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিশ্চিতভাবে এক আল্লাহকেই রব হিসেবে জেনেছেন ও মেনেছেন।কখনোই, কোনো অবস্থাতেই মূর্তিপূজার অপবিত্রতা তাঁর পবিত্র জীবনে স্পর্শ করেনি। এ কারণেই তাঁকে “কররামাল্লাহু তাআলা ওয়াজহাহু” (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
> ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء
“এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।”
আর মূল বক্তব্য হলো—
> ولا تزول التبعية إلى البلوغ، نعم تزول التبعية إذا اعتقد دينا غير دين أبويه إذا عقل الأديان فحينئذ صار مستقلا
“বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অনুসারিতা দূর হয় না। তবে হ্যাঁ, যখন শিশু ধর্মসমূহ বুঝার যোগ্য হয় এবং সে তার পিতা-মাতার ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মকে বিশ্বাস করে, তখন তার অনুসারিতা শেষ হয়ে যায়; কারণ তখন সে স্বতন্ত্র গণ্য হয়।” (বাহরুর রায়েক্ব, এইচ. এম. সাঈদ কোম্পানি, করাচি সংস্করণ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১৯০)
ذو الفضل المبین (یہ اللہ تعالی کا فضل ہے جسے چاہے عطا فرمائے وہ نمایاں فضل والا ہے۔ ت)
“এটি সুস্পষ্ট মহান অনুগ্রহের অধিকারী আল্লাহ তাআলার দান; তিনি যাকে ইচ্ছা এ অনুগ্রহ দান করেন। ۔
এখন অবশিষ্ট থাকে কেবল সেই কয়েক বছর, যা জন্মের পর সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও না-বোঝার সময় হিসেবে গণ্য হয়। সে অবস্থায় শিশু কোনো কিছুর প্রকৃত ধারণা রাখে না এবং কিছু বুঝতেও সক্ষম হয় না।
স্পষ্টতই, এ বয়সে কোনো শিশুকে প্রকৃত অর্থে “কাফির” বলা যেতে পারে না। কারণ “কাফির” শব্দটির সত্য প্রয়োগের জন্য কুফর ও অস্বীকারের বাস্তব অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক। অথচ বুঝ ও উপলব্ধি ছাড়া কুফর বা অস্বীকার কল্পনাই করা যায় না।
বরং সে সময় পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুর ধর্ম হলো স্বাভাবিক ইসলামী ফিতরাত— যেমনটি সহীহ হাদীসসমূহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
۔
হ্যাঁ, যার পিতা-মাতা কাফির, তার উপর তাদের অনুসারিতার বিধান আরোপ করা হয়— তখনই, যখন সেই অনুসারিতা বাস্তবে কল্পনা করা সম্ভব হয়। অন্যথায় নয়। যেমন, কোনো শিশুকে যদি দারুল ইসলাম অঞ্চলে বন্দী করে আনা হয় অথচ তার কাফির পিতা-মাতা দারুল হারবে অবস্থান করে, তবে অঞ্চলগত পার্থক্যের কারণে পিতা-মাতার অনুসারিতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন সেই শিশিকে দারুল ইসলামের অনুসারী মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে।
لانه تبع له ولوسياحدا بويه لا يصلى عليهبدونه فمسلم تبعاللدار او للسابي او ملخصا. (رد المختار كتاب الصلوة باب صلاة الجنازة مطبع مجتبائی دہلی ۱۲۳/۱)
“কারণ সে ঐ অঞ্চলের অনুসারী। আর যদি তার পিতা-মাতার একজন বন্দী হয়, তবে অপরজন ছাড়া তার জানাযা পড়া হবে না। সুতরাং সে অঞ্চলগত অনুসারিতা অথবা বন্দীকারীর অনুসারিতা— কিংবা উভয়ের কারণেই মুসলিম গণ্য হবে।” — রদ্দুল মুহতার, কিতাবুস সালাত, বাবু সালাতিল জানাযা।
অতএব ফলাফল দাঁড়াল যে, বুঝ ও বিবেচনাশক্তি ছাড়া কুফর কল্পনাযোগ্য নয়। তাই অবুঝ শিশু কুফর থেকে মুক্ত থাকবে। যখন তার মধ্যে কুফর বিদ্যমান নয়, তখন তাকে “কাফির” বলাও সঠিক হবে না। কারণ “কাফির” শব্দটি “কুফর” থেকেই مشتق (উৎপন্ন)। আর কোনো مشتق শব্দ কারো ক্ষেত্রে সত্য হওয়ার জন্য মূল উৎসগুণ (مصدر) তার মধ্যে থাকা আবশ্যক।
যেমন “আলিম” শব্দটি কারো জন্য প্রযোজ্য হতে হলে তার মধ্যে ‘ইলম’ (জ্ঞান) থাকা জরুরি।সুতরাং শিশু যখন মূল বস্তু অর্থাৎ “কুফর” থেকেই মুক্ত প্রমাণিত হলো, তখন তার উপর “কাফির” শব্দের প্রয়োগও হতে পারে না। (মুহাম্মদ আহমেদ মিসবাহী)
وفي نكاحه : الولد يتبع خير الابوين دينا ان اتحدت الدارة (رد المختار كتاب النکاح باب نكاح الكافر مطبع مجتبائی دہلی ۲۱۱)
“তার বিবাহ-সংক্রান্ত বিষয়ে (ফিকহের বিধান হলো): সন্তান দ্বীনের দিক থেকে পিতা-মাতার মধ্যে যে অধিক উত্তম, তার অনুসারী হবে—যখন উভয়ের আবাস এক হয়।”
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ অধ্যায়, বাবু নিকাহিল কাফির)
۔
যখন এ বিষয়টি ফলপ্রসূভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল, তখন এখানে সে অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার বয়সেও এই অগ্রহণযোগ্য ও অসঙ্গত ধারণা দুইটি বিষয়ের প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে দাঁড়াল।
প্রথম বিষয় : হযরত ফাতিমা যাহরা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা এবং আবু তালিব—উভয়েরই সে সময় পর্যন্ত কাফির হওয়া। কারণ এদের মধ্যে একজনও যদি মুমিন প্রমাণিত হন, তবে সন্তান তার অনুসরণে মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) বলে গণ্য হবে এবং কখনোই কাফিরের অনুসরণ করবে না। কেননা সকল আলেম এ কথার ওপর একমত যে,
“সন্তান দ্বীনের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার মধ্যে যে উত্তম, তারই অনুসারী হয়।”
কারণ সমস্ত আলেম সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মা-বাবার মধ্যে দ্বীনের বিচারে যে শ্রেষ্ঠ, সন্তান তারই অনুসারী হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় বিষয় : সে সময় অনুসরণের (তাবিয়্যাতের) হুকুম সত্য ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া।এ দুই বিষয়ের যেকোনো একটি যদি প্রমাণের স্তর থেকে পতিত হয়, তবে এই অসার ধারণা—যে তা কল্পনা করেছে, তার মুখের ওপরই প্রত্যাখ্যাত হবে। কিন্তু মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলার রব জল্লা ওয়া আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা ও গুণকীর্তন যে, তাঁর অনুগ্রহে এ দুই বিষয়ের একটিও প্রমাণিত নয়।
প্রথমত, আহলে ফিতরাত—অর্থাৎ যাদের নিকট আল্লাহর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের) দাওয়াত পৌঁছেনি—তারা তিন প্রকার।
প্রথম প্রকার : মুওয়াহহিদগণ; যাদেরকে চিরন্তন হিদায়াত সেই সর্বব্যাপী অন্ধকার যুগেও তাওহীদের পথ দেখিয়েছিল। যেমন :
কুস ইবনে সাঈদা, যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল,
আমির ইবনুল দারব, কায়িস ইবনে আসিম আল তামিমী,
এবং সাফওয়ান প্রমুখ।
উমাইয়া ইবনে আবি আল সামিত প্রমুখ দ্বিতীয় প্রকার হলো মুশরিক; যারা নিজেদের অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে শুরু করেছিল, যেমন অধিকাংশ আরব।
তৃতীয় প্রকার : গাফিল লোকেরা; যারা সরলতা কিংবা দুনিয়াবি ব্যস্ততায় নিমগ্ন থাকার কারণে এ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানই করেনি। তারা পশুর ন্যায় জীবন অতিবাহিত করেছে। আকীদা-বিশ্বাসের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করাকেই প্রয়োজন মনে করেনি, অথবা চিন্তা ও গবেষণার সুযোগই পায়নি। বহু নারী, চতুষ্পদ জন্তুপালক এবং মরু-জঙ্গলবাসী লোকদের সম্পর্কেও এ ধারণা করা হয়।
নোট : হযরত আলী রাঃ এর সম্মানিতা মাতা, যিনি পরে সাহাবিয়া হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন—তিনি এবং হযরত আলীর পিতা উভয়েই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য বান্দা ছিলেন। জাহেলিয়াতের যুগে তারা শুধু মুওয়াহহিদই ছিলেন না; বরং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রকাশের পূর্বেই তাঁর আগমনের ওপর ঈমান রাখতেন। কুস ইবনে সাঈদা উকায বাজারের ভাষণে নিজ জাতিকে বলেছিলেন :
“অচিরেই এ দিক থেকে এক মহান সত্যের আবির্ভাব ঘটবে।”
এবং তিনি মক্কার দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। তারপর লোকেরা জিজ্ঞেস করল : “সে সত্য কী?”
তিনি বললেন : “লু’ই ইবনে গালিবের বংশ থেকে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন, যিনি তোমাদেরকে কালিমায়ে ইখলাস, চিরস্থায়ী শান্তি ও অনন্ত নেয়ামতের দিকে আহ্বান করবেন। তোমরা তাঁর কথা মানবে। যদি আমি জানতাম যে তাঁর নবুয়তের যুগ পর্যন্ত বেঁচে থাকব, তবে সবার আগে তাঁর দিকে ছুটে যেতাম।”
(এ বর্ণনাটি আবু নুআইম আল ইস্ফাহানী তাঁর দালায়েলুন নবুয়ত গ্রন্থে ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন।)
আমীর ইবনে রাবিয়া রাঃ বলেন, যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল বর্ণনা করেছেন যে :
“আমি আমার কওমের বিরোধিতা করেছি এবং ইবরাহিম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালামের দ্বীনের অনুসারী হয়েছি। তাঁরা উভয়েই মূর্তিপূজাকে স্বীকার করতেন না এবং এই কিবলার দিকেই নামাজ পড়তেন। আমি ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে এক নবীর প্রতীক্ষা করছি; কিন্তু আমার ধারণা, আমি তাঁর যুগ পর্যন্ত পৌঁছতে পারব না। আমি তাঁর ওপর ঈমান আনি, তাঁকে সত্য বলে মানি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর নবী। হে আমির! যদি তোমার আয়ু দীর্ঘ হয়, তবে তাঁর কাছে আমার সালাম পৌঁছে দেবে।”
আমির রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, যখন আমি হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জায়েদের এ ঘটনা বর্ণনা করলাম, তখন হুযূর আকদাস সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিলেন, তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করলেন এবং ইরশাদ করলেন :“আমি তাকে জান্নাতে দেখেছি—সে সেখানে আপন পোশাক টেনে টেনে বিচরণ করছে।” (এ বর্ণনাটি ইবনে সা'দ এবং আল ফাকিহী, আমর ইবনে রাবিআহ থেকে বর্ণনা করেছেন।)
قال العلامة الزرقاني ، ومن جاهلية عم الجهل فيها شرقا وغربا وفقد فيها من يعرف الشرائع ويبلغ الدعوة على وجهها الانفرا يسيرا من احباب اهل الكتاب مفرقين في اقطار الارض كالشام وغيرها و اذا كان النساء اليوم مع فشو الاسلام شرقا وغريا لا يدرين غالب احكام الشريعة بعدم مخالطتهن الفقهاء فما ظنك بزمان الجاهلية والفترة الذي رجاله لا يعرفون ذلك فضلا عن نسائه ، ولذا لما بعث صلى الله تعالیٰ علیہ وسلم تعجب اهل مكة وقالوا ابعث الله بشرا ر سولا و قالوا لو شاء ربنا لا نزل ملئكة وسريتها كانوا يظنون ان ابراهيم عليه السلام بعث بما هم عليه فانهم لم يجدوا من يبلغهم شریعته على وجهها لد ثور ها و فقد من يعرفها اذ كان بينهم وبينه ازيد من ثلثة الاف سنة ، قاله في مسالك الحنفاء و الدرج المنيفة لله باختصار .
আয যুরক্বানী বলেছেন :
“জাহেলিয়াত এমন এক যুগ ছিল, যেখানে পূর্ব ও পশ্চিম সর্বত্র অজ্ঞতার আধিপত্য বিস্তার করেছিল। শরীয়তের বিধান জানে এবং সঠিকভাবে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে পারে—এমন লোক প্রায় বিলুপ্ত ছিল। কেবল আহলে কিতাবের অতি অল্প কিছু লোক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, যেমন শাম প্রভৃতিতে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিল।
আর আজকের যুগে—যখন ইসলামের প্রসার পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে—তবুও বহু নারী আলেমদের সংস্পর্শ না পাওয়ার কারণে শরীয়তের অধিকাংশ বিধান জানে না। তাহলে তুমি জাহেলিয়াত ও ফাতরাতের যুগ সম্পর্কে কী ধারণা করবে? যে যুগে পুরুষেরাই এসব জানত না, সেখানে নারীদের অবস্থা তো আরও অধিক অজ্ঞতাপূর্ণ ছিল।
এ কারণেই যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করা হলো, তখন মক্কার লোকেরা বিস্মিত হয়ে বলেছিল :
‘আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’
এবং তারা বলেছিল :
‘আমাদের প্রতিপালক চাইলে কোনো ফেরেশতা অবতীর্ণ করতেন।’
তারা মনে করত যে, হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যে দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন, তারা তারই ওপর রয়েছে। কারণ এমন কেউ তাদের মাঝে ছিল না, যে তাদের নিকট ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শরীয়তকে সঠিকভাবে পৌঁছে দিত। কেননা সেই শরীয়তের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তা জানে—এমন ব্যক্তিও আর অবশিষ্ট ছিল না। উপরন্তু, তাদের ও ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মধ্যবর্তী সময় ছিল তিন হাজার বছরেরও বেশি।” (শরহে মাওয়াহিবু লাদুন্নিয়া)
এ কথা তিনি সংক্ষেপে মাসালিকুল হুনাফা এবং আদ দারাজুল মুনীফাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

Comments
Post a Comment