Skip to main content

সুন্নি / আহলে সুন্নত এবং শিয়াদের বিভিন্ন বিষয়ে তুলনামূলক বইপুস্তক কিতাব গ্রন্থসমূহ


 সুন্নি / আহলে সুন্নত এবং শিয়াদের বিভিন্ন বিষয়ে তুলনামূলক বইপুস্তক কিতাব গ্রন্থসমূহ।

Comparative differences between books on various subjects of Sunni and Shia Muslims

পর্ব ০১ Part 01

আমরা সবাই জানি যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী বা মুসলিমদের মধ্যে প্রধান দুটি মতবাদ বা শাখা হলো সুন্নি ও শিয়া । সুন্নি ও শিয়া মুসলিমদের মধ্যে  আকীদা, ইবাদত, ফিকহ, ইসলামী ইতিহাস, হাদিস, তাফসির, ক্যালেন্ডার-সংক্রান্ত কিছু বিষয় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দিবস পালনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন—নামাজ আদায়ের পদ্ধতি,রোজা রাখার সময়, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর জন্মতারিখ সম্পর্কে মত, বিশেষ কিছু আনন্দ খুশি ও শোক দিবস পালন, কিংবা হিজরি ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট দিনের মর্যাদা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা যায়।

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে গাদীরে খুমে নবী সাঃ হযরত আলী (রা. ও আঃ) সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। শিয়ারা এটিকে আলী (রা. ও আঃ)-এর উত্তরাধিকার ঘোষণার দলিল মনে করেন, আর সুন্নিরা এটিকে তাঁর মর্যাদা ও ভালোবাসার ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। নবী সাঃ -এর ইন্তেকালের পর সাকীফায় সাহাবাদের এক বৈঠকে আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। সুন্নিরা এটিকে বৈধ খিলাফত মনে করেন, আর শিয়ারা বিশ্বাস করেন আলী (রা.)-ই ছিলেন নবী সাঃ -এর নির্ধারিত উত্তরসূরি । হযরত আলী (রা.) ও তাঁর পুত্রদের যুগে রাজনৈতিক বিরোধ আরও গভীর হয়, সেসময় উমাইয়া খিলাফতের শাসন শুরু হয় । ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইমাম হুসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন, যা শিয়া পরিচয়ের কেন্দ্রীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ইমামদের উত্তরাধিকার প্রশ্নে শিয়ারা ইমামিয়া (বারো ইমামি), ইসমাইলি ও যায়েদীসহ বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়, বারো ইমামীদের মধ্যে উসুলি ও আখবারী দুটি মতাদর্শের জন্ম হয়েছিল । অন্যদিকে সুন্নি মুসলিমদের মধ্যে চার মাযহাব (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি) এবং আশআরী, মাতুরিদী ও আছারী আকীদাগত ধারা বিকশিত হয়। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে উভয় ধারায় হাদিস, তাফসির, ফিকহ ও ইতিহাসের বিপুল গ্রন্থ রচিত হয় । সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম সহ প্রধান ৬ হাদিসগ্রন্থসমূহ, ফিকহ, আকীদা ও ইতিহাসে পরবর্তীকালে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয় । শিয়া মুসলমানদের মধ্যে ইমামীয় শিয়াদের কুলাইনীর আল কাফি সহ চারটি প্রধান হাদিসগ্রন্থ, ইমামত, আহলুল বাইতের ফজিলত, ফিকহ ও কালাম বিষয়ে পৃথক সাহিত্যভাণ্ডার গড়ে ওঠে। যায়েদী শিয়ারা হাদিস, ফিকহ ও কালামশাস্ত্রে নিজস্ব সাহিত্যভাণ্ডার গড়ে তোলে। ইয়েমেনে যায়েদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বহু ফিকহ, তাফসির ও আকীদাবিষয়ক গ্রন্থ রচিত হয়। তাদের গ্রন্থসমূহে আহলুল বাইতের মর্যাদা বিশেষ গুরুত্ব পেলেও সুন্নি হাদিস ও ফিকহি ঐতিহ্যের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য মিল দেখা যায়।

৯০৯ খ্রিস্টাব্দে শিয়া ফাতিমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫০১ সালে সাফাভী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পারস্য ইরানে দ্বাদশী শিয়াবাদ রাষ্ট্রীয় মতাদর্শে পরিণত হয়। এর ফলে ইরান ধীরে ধীরে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। অন্যদিকে আব্বাসীয়,সেলজুক,উসমানীয়, দিল্লি সালতানাত ও মুঘল সাম্রাজ্যসহ অধিকাংশ বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানত সুন্নি ছিল। অবশেষে আধুনিক যুগে বিংশ শতাব্দীর সময়ে ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লব -এর মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং -এর নেতৃত্বে আধুনিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লব বিশ্বব্যাপী শিয়া রাজনীতি ও ধর্মীয় চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।এই দীর্ঘ ইতিহাসে সুন্নি ও শিয়া উভয় ধারাই নিজেদের হাদিস, ফিকহ, আকীদা, তাফসির ও ইতিহাসভিত্তিক বিশাল গ্রন্থভাণ্ডার গড়ে তুলেছে।

এই ধারাবাহিক পোস্টে সুন্নি ও শিয়া মুসলিমদের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহৃত কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির, হাদিসগ্রন্থ, আকীদা, ফিকহ, সীরাত ও ইতিহাসসহ গুরুত্বপূর্ণ বইপুস্তক ও কিতাবের পরিচয় তুলে ধরা হবে। উদ্দেশ্য বিতর্ক সৃষ্টি নয়; বরং তথ্যভিত্তিক পরিচিতি প্রদান, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং শিয়া মুসলিমদের সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূরীকরণে সহায়তা করা।

এই পোস্ট সিরিজে ধারাবাহিকভাবে যেসব বিষয়ে পোস্ট দেওয়া হবে :
১. সুন্নি ও শিয়াদের কুরআনের উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও তাফসীর গ্রন্থ সমূহ
২. সুন্নি ও শিয়াদের তুলনামূলক হাদিস গ্রন্থ সমূহের যেসব পার্থক্য আছে
৩. সুন্নি ও শিয়াদের তুলনামূলক আকীদা ও ফিকহ গ্রন্থ সমূহের যেসব পার্থক্য আছে
৪. সুন্নি ও শিয়াদের জীবনী / সীরাত ও ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি বা বই-পুস্তক এর তুলনামূলক পার্থক্য সমূহ এবং
৫. ইবাদত,জীবনধারা, আত্মশুদ্ধি ও সমকালীন বিষয়ে সুন্নি ও শিয়াদের তুলনামূলক বই-পুস্তক এর পার্থক্য।

In 632 CE, on his way back from the Farewell Pilgrimage, the Prophet Muhammad (Saw:) delivered an important speech about Sayyiduna Mawla Ali ibn Abi Talib (RA) at Ghadir-e-Khumm. Shias consider this as a declaration of Ali's (RA) succession, while Sunnis interpret it as a declaration of his dignity and love for him. After the Prophet's (Saw:) death, Abu Bakr (RA) was elected as the first Caliph at a meeting of the Companions at Saqifa. Sunnis consider this a legitimate caliphate, while Shias believe that Ali (RA) was the Prophet's designated successor. Political conflicts deepened during the reign of Hazrat Ali (RA) and his sons, during which the Umayyad Caliphate began to rule. In 680 CE, Imam Hussain (RA) was martyred in the tragic incident of Karbala, which became a central event in Shia identity. Later, on the issue of the succession of the Imams, Shia divided into various branches including Imamia (Twelvers), Ismaili and Zaydi. On the other hand, among Sunni Muslims, four schools of thought (Hanafi, Maliki, Shafi'i, Hanbali) and Ash'ari, Maturidi and Ash'ari schools of thought developed. Between the 8th and 12th centuries, both schools produced a vast body of books on hadith, tafsir, jurisprudence and history. Among Sunni Muslims, the six main hadith books, including Sahih Bukhari and Sahih Muslim, and numerous books on fiqh, aqeedah and history were later written. Among Shia Muslims, the four main hadith books, including Kulayni's al-Kafi of the Imami Shias, and separate literary collections on the subjects of Imamate, virtues of the Ahlul Bayt, jurisprudence and kalam, developed. The Zaydi Shiites developed their own literary repertoire in hadith, jurisprudence, and theology. After the establishment of the Zaydi state in Yemen, many books on jurisprudence, tafsir, and aqeedah were written. Although the status of the Ahlul Bayt was given special importance in their books, there are also significant similarities with the Sunni hadith and jurisprudential traditions.

The Shiite Fatimid Caliphate was established in 909 AD. With the establishment of the Safavid Empire in 1501, Twelver Shiism became the state ideology in Persian Iran. As a result, Iran gradually transformed into a Shia-majority state. On the other hand, most major Muslim states, including the Abbasid, Seljuk, Ottoman, Delhi Sultanate, and Mughal Empires, were predominantly Sunni. Finally, in the modern era, in the 20th century, the monarchy in Iran ended with the Iranian Revolution in 1979, and the modern Islamic Republic was established under the leadership of This revolution has had a profound impact on Shia politics and religious thought worldwide. During this long history, both Sunni and Shia sects have developed their own vast libraries of hadith, jurisprudence, aqeedah, tafsir, and history.

This series of posts will highlight the identity of important books and texts, including translations of the Quran and tafsir, hadith books, aqeedah, fiqh, seerat, and history, used by Sunni and Shia Muslims on various subjects. The purpose is not to create controversy; rather, to provide information-based introductions, increase mutual understanding, and help eliminate common misconceptions about Shia Muslims.

Comments

Popular posts from this blog

কাশফুল মাহযুব Kashful mahzub pdf

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কাশফুল মাহযুব হল হযরত দাতা বখশ হাজভেরী রহঃ এর অন্যতম গ্রন্থ । এর বাংলা হল মারেফতের মর্মকথা । বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে রশিদ বুক হাউজ । মূল বইটি ফারসি ভাষায় লিখিত । download this book in bangla : kashful mahzoob in bangla Kashful mahzoob is a book which is written by data ali hazveri rh.  Kashful Mahjoob  was originally written in Persian language by Hazrat Daata Ganj Bakhsh Ali Hajveri but then translated into many other languages as well including Urdu. Complete name of Hazrat Daata Sahab is ‘Abul Hassan Ali Ibn Usman al-Jullabi al-Hajveri al-Ghaznawi’. The book is a master piece in Islamic Sufi genre. Daata Ali Hajveri has written many books but this book has become a symbol in Sufi books. A famous saying about this book is ‘if you want to find a true murshad (spiritual guider) for you then read this book and you will definitely find one’. Download in english   https://ia601901.us.archive.org/21/items/KashfulMahjoobEn/KashfulMah...

নিলামে ফিলিস্তিন ( যেভাবে ফিলিস্তিন ঔপনিবেশিক শক্তির নিকট বিক্রি হয়ে যায়) ইয়াসির আরাফাত হিন্দী আশআরীর লেখনী (১ম পর্ব)

  বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিরাট এক পরিবর্তন আসে। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে খলিফাতুল মুসলিমিন সুলতান আবদুল হামিদ খান আস-সানির অপসারণের পর উসমানি সাম্রাজ্য অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সংকীর্ণ থেকে সংকীর্ণতর হয়ে পড়ে খিলাফতের সীমারেখা। এরপর ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের মুসলিম জাহানের সর্বশেষ খিলাফত উসমানি খিলাফতের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমবিশ্বের মানচিত্র সম্পূর্ণরূপে বদলে যায়। ইউরোপ সীমান্ত থেকে নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া জুড়ে সুবিস্তৃত মুসলিম খিলাফত ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আরব জাহান পরিণত হয় ব্রিটিশ অথবা ফ্রেঞ্চ কলোনিতে। ক্রমশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকে মুসলিম সাম্রাজ্য। পিতৃহারা কৃশকায় সন্তান যেমন ভবলেশহীন জনাকীর্ণ পথের এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়, মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে বেড়ায়, তেমনি খলিফা নামক মাথার ছাতাটি সরে যাওয়ার ফলে মুসলিম উম্মাহ পিতৃহারা ও দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সেই মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার করে শত্রুরা তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করে, ঠিক যেমনভাবে ক্ষুধার্ত পশুরা খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখন আর মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ রইল না। আরব ও মুসলিম বিশ্বকে দাস...

নজিরবিহীন ইসকন কান্ড:প্রসাদ খাইয়ে চট্টগ্রামের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ (কিছু কথা)

নজিরবিহীন ইসকন কান্ড:প্রসাদ খাইয়ে চট্টগ্রামের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ (কিছু কথা) আসসালামু আলাইকুম  । আজকে চেষ্টা করছি একটি বিষয় নিয়ে আমার এই ব্লগে কথা বলার।প্রথমে এখানে দৈনিক ইনকিলাবের ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবারের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের কিছু অংশ দেওয়া হলো : "স্কুলে  স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সিটি কর্প...