Skip to main content

সুন্নি / আহলে সুন্নত এবং শিয়াদের বিভিন্ন বিষয়ে তুলনামূলক বইপুস্তক কিতাব গ্রন্থসমূহ। পর্ব ০২

 কুরআনের উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও তাফসীর গ্রন্থ সমূহ

২.১
পবিত্র আল কুরআনুল কারীম ইসলামের প্রধান ও প্রথম ধর্মীয় উৎস, ধর্মগ্রন্থ। পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত কালাম, আসমানী কিতাব যা মহানবী শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর উপর নাজিল বা অবতীর্ণ হয়েছিল । পবিত্র কুরআন ৩০ পারা। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন : إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَـٰفِظُونَ
অর্থ : "নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হেফাযতকারী "(সুরা হিজর, আয়াত ০৯)।
এটা সকলের জানা ও বুঝা উচিৎ যে সারাবিশ্বের সকল মুসলিমদের পবিত্র কুরআন ৩০ পারা অপরিবর্তিত বা একই। তাই সুন্নি ও শিয়া মুসলিম উভয়ের কুরআনই অপরিবর্তিত ও অবিকৃত অবিস্থায় আছে, এতে কোন ধরনের পরিবর্তন কিংবা বিকৃতি হয়নি। একথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, রাসূল মুহাম্মদ সা. এর যুগে বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ সংকলনের তৎপরতা ছিল খুবই কম। আর প্রিয়নবী সা. এর জীবদ্দশায় গ্রন্থ সংকলনের প্রয়োজনও তেমন ছিল না। কারণ তখন পবিত্র কুরআনের তাফসীর বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম রা. কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে মহানবী, শেষ নবী, রাসূল মুহাম্মদ সা. এর নিকট জিজ্ঞাসা করে এর সমাধান করিয়ে নিতেন তাই তখন কোন তাফসীর ও হাদিস গ্রন্থ সংকলিত হয়নি । হিজরী প্রথম শতাব্দীর সময়ে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ ১১ হিজরীতে রাসুলুল্লাহ সাঃ ইহলোক ত্যাগ করে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন এবং মদীনায় মসজিদে নববীর পাশেই দাফন করা হয়। তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন, আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামদের সময়ে রাসূল সা. থেকে শ্রবণকৃত পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের তাফসীর লেখা ছিল । ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঐতিহ্য অনুসারে, এর পূর্ণ ভাষাগত ও আধ্যাত্মিক সারমর্ম মূল আরবিতেই সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল, যার ফলে অনুবাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হতো। প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলো প্রায়শই আংশিক, পাশাপাশি তাফসীরের অংশ ছিল, স্বতন্ত্র পূর্নাঙ্গ অনুবাদ ছিল না । সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদের প্রচেষ্টাটি করেছিলেন সালমান আল-ফারসি (রাঃ) যিনি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সূরা ফাতিহাকে মধ্যম ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন। যা ফারসিভাষীদের ব্যবহারিক বোঝার সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছিল।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায় যে, তখন হযরত আলী রা. ও হযরত উবাই ইবনে কা‘ব রা. এর পৃথক মাসহাফ ছিল। আর এসব মাসহাফে কুরআনী আয়াতের পাশাপাশি রাসূল সা. থেকে শ্রবণকৃত পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের তাফসীরও লেখা ছিল। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবিয়ীগণের মধ্যবর্তী যুগে কুরআনের তাফসীর সংকলন শুরু হয় এবং । সে হিসাবে ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী প্রথম হিজরী শতাব্দী সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই অন্তত কয়েক টি কুরআনের তাফসীর গ্রন্থ সংকলনের প্রমাণ পাওয়া যায় । সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে: তাফসীরে ইবনে আব্বাস রাঃ, তাফসীরে মুজাহিদ রাঃ, তাফসিরে ইবনে মাসউদ রাঃ, তাফসীরে আবুল আলিয়া রুফাই রাঃ এবং সহীফাতু আলী ইবনে আবি তালহা।
কুরআনের তাফসীর চর্চার ক্ষেত্রকে বিকশিত করতে শিয়াদের মধ্যে ইমামীয় ও জায়েদী শিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। শিয়াদের দৃষ্টিতে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, উবাই ইবনে কাব এবং মিসামে তাম্মার রাঃ ছিলেন সেইসব প্রাথমিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম, যারা কুরআনের ব্যাখ্যা বা ভাষ্য রচনায় নিযুক্ত ছিলেন। ইবনে আব্বাসের অন্যান্য শিষ্যদের মধ্যে যাদের শিয়া ঝোঁক ছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন আবু সালিম মিযান আল-বাসরি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়ামানি তাউস ইবনে কায়সান, যিনি ইমাম আস-সাজ্জাদ (রাঃ)-এরও শিষ্য ছিলেন। আতিয়্যা ইবনে সাঈদ আল-কুফিও এই অনুসারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত; তিনি ইমাম আল-বাকির (রাঃ.)-এর শিষ্য ছিলেন এবং 'তাফসীর আতিয়্যা আল-কুফি' শিরোনামে পাঁচ খণ্ডে একটি কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মে, আরও বিপুল সংখ্যক শিয়া তাফসীর চর্চায় নিযুক্ত হন এবং ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ রচনা করেন । হিজরী প্রথম শতাব্দী থেকে ৮ম হিজরী শতাব্দী পর্যন্ত অর্থাৎ ১৪ খ্রিস্টাব্দ শতাব্দীর সময় পর্যন্ত সুন্নি ও শিয়াদের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ তাফসীর গ্রন্থ রচিত হয়েছিল যার মধ্যে সুন্নিদের তাফসীরে ইবনে আব্বাস,তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে জালালাইন, ইমামীয় শিয়াদের তাফসীরে কুম্মি,তাফসীরে হাসান আসকারী,তাফসীরে ফুরাতুল কুফি,তাফসীরে নুরুস সাক্বালাইন ও যায়েদী শিয়াদের তাফসীরে ইমাম যায়েদ উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, খ্রিস্টীয় ১০ম শতাব্দী থেকে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ বিভিন্ন ভাষায় শুরু হয়। ৩৫০–৩৬৬ হিজরী (১০ম শতাব্দী) সময়ে খোরাসানের সামানীয় শাসনামলে ফারসি ভাষায় কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ হয়। একই শতাব্দীতে তুর্কি ভাষায় আংশিক অনুবাদ এবং পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে খাজা আবদুল্লাহ আনসারীর এক ছাত্র ফারসি তাফসির রচনা করেন। দ্বাদশ শতাব্দীতে নাজম আল-দীন উমর আন-নাসাফি ফারসি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন এবং ১৫শ শতাব্দীতে তুর্কি ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
১৪৫০-এর দশকে ইউরোপে ছাপাখানার প্রসার ঘটলেও উসমানীয় শাসনাধীন অঞ্চলে মুসলিমদের জন্য আরবি লিপিতে বই মুদ্রণের নিষেধাজ্ঞা ১৭২৭ সাল পর্যন্ত কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল; যদিও ইহুদি, আর্মেনীয় ও গ্রিক খ্রিস্টানরা নিজ নিজ ভাষায় বই ছাপতেন। ১৭ ও ১৮শ শতাব্দীতে ইংরেজিতে কুরআনের প্রথম অনুবাদ করেন আলেকজান্ডার রস (১৬৪৯) ও জর্জ সেইল (১৭৩৪/১৭৩৪–৩৮ সংস্করণ প্রচলিত)। উপমহাদেশে ফারসি ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১৭৩৮)। উর্দুতে শাহ রফিউদ্দিন দেহলভী (১৭৮৬) ও শাহ আব্দুল কাদির দেহলভী (১৭৯১) প্রথম অনুবাদ করেন। বাংলায় প্রথম অনুবাদ করেন মাওলানা আমীর উদ্দিন বসুনিয়া (১৮০৯)। পরে গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৮৬) , রাজেন্দ্রনাথ মিত্র, পাদ্রি তারাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাওলানা নঈমুদ্দিন ও আকবর উদ্দিনসহ আরও অনেকে অনুবাদ করেন। এর মধ্যে গিরিশচন্দ্র সেনের অনুবাদটি বাংলা ভাষায় কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ হিসেবে পরিচিত।
১৪৫০-এর দশকে ইউরোপে ছাপাখানার প্রসার ঘটলেও উসমানীয় শাসনাধীন অঞ্চলে মুসলিমদের জন্য আরবি লিপিতে বই মুদ্রণের নিষেধাজ্ঞা ১৭২৭ সাল পর্যন্ত কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল; যদিও ইহুদি, আর্মেনীয় ও গ্রিক খ্রিস্টানরা নিজ নিজ ভাষায় বই ছাপতেন। ১৭ ও ১৮শ শতাব্দীতে ইংরেজিতে কুরআনের প্রথম অনুবাদ করেন আলেকজান্ডার রস (১৬৪৯) ও জর্জ সেইল (১৭৩৪/১৭৩৪–৩৮ সংস্করণ প্রচলিত)। উপমহাদেশে ফারসি ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১৭৩৮)। উর্দুতে শাহ রফিউদ্দিন দেহলভী (১৭৮৬) ও শাহ আব্দুল কাদির দেহলভী (১৭৯১) প্রথম অনুবাদ করেন। বাংলায় প্রথম অনুবাদ করেন মাওলানা আমীর উদ্দিন বসুনিয়া (১৮০৯)। পরে গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৮৬) , রাজেন্দ্রনাথ মিত্র, পাদ্রি তারাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাওলানা নঈমুদ্দিন ও আকবর উদ্দিনসহ আরও অনেকে অনুবাদ করেন। এর মধ্যে গিরিশচন্দ্র সেনের অনুবাদটি বাংলা ভাষায় কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ হিসেবে পরিচিত।
মুসলিমদের রচিত প্রথম দিকের ইংরেজি অনুবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম খান (১৯০৫), মির্জা আবুল ফজল (১৯১১), হায়রাত দেহলভী (১৯১৬), মওলানা মোহাম্মদ আলী (১৯১৭), মুহাম্মদ মার্মাডিউক পিকথল (১৯৩০) ও আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী (১৯৩৪)। এর মধ্যে মির্জা আবুল ফজলের অনুবাদটি শিয়া মুসলিমদের পক্ষ থেকে প্রথম ইংরেজি অনুবাদ হিসেবে পরিচিত। বিংশ শতাব্দীতে বাংলা ও উর্দু ভাষায় শত শত কুরআনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়। বিংশ শতাব্দীর সময়ে বাংলা ভাষায় মাওলানা আব্বাস আলী(১৯০৫, মুসলিমদের মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ) ,মাওলানা আকরম খাঁ, মেহেরুল্লাহ সানি, রুহুল আমিন বশিরহাটি(১৯১৭), আব্দুল হাকিম ও আলী হাসান(১৯২২), কাজী নজরুল ইসলাম (কাব্য আমপারা)(১৯৩৩), ইসলামিক একাডেমি(বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন)(১৯৬৭), নুরুর রহমান (১৯৭৪), মুহিউদ্দিন খান(১৯৮০), ডঃ মুজীবুর রহমান (১৯৮৮) ও ১৯৯০ এর দশকে হাফেজ মুনীর উদ্দিন আহমদের অনুবাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উর্দু ভাষায় নাজির আহমেদ দেহলভী, আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান বেরেলভী (কানযুল ঈমান), আজাদ সুবহানী, মওলানা আশরাফ আলী থানভী, মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী (তরজমায়ে শাইখুল হিন্দ), ফতেহ জালান্ধরী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী, আমিন আহসান ইসলাহী ও মুফতি শফীর অনুবাদ বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।
এখানে বাংলা সহ ৫ টি ভাষায় কুরআনের যেসব অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য অনুবাদের তালিকা দেওয়া হলো।
বাংলা : বাংলা ভাষায় ১৮০৯ খ্রিঃ সাল থেকে বর্তমান সময়ে এপর্যন্ত মোট শত শত বলা যায় ১৩০ টির কাছাকাছি কুরআনের অনুবাদ রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। তন্মধ্যে যেসব ব্যক্তি মনীষীগণ কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
১. মওলানা আমীর উদ্দিন বসুনিয়া, রংপুর (১৮০৮/১৮০৯ খ্রিঃ, আংশিক অনুবাদ)
২. গিরিশচন্দ্র সেন ( ১৮৮৬ খ্রিঃ সাল, প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ)
৩. মওলানা আব্বাস আলী, পশ্চিমবঙ্গ (১৯০৫, মুসলিমদের মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ)
৪. মওলানা আকরম খাঁ (১৯০৮)
৫. মেহেরুল্লাহ সানী, সিরাজগঞ্জ (১৯১১)
৬. আব্দুল সাত্তার সুফি (১৯১৭)
৭. আল্লামা রুহুল আমিন বশিরহাটি, পশ্চিমবঙ্গ (১৯১৭)
৮.মোহাম্মদ আবদুল হাকিম ও মোহাম্মদ আলী হাসান (১৯২২)
৯. শেখ ইদ্রিস আহমদ, চাঁদপুর (১৯২৩)
১০. মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ছিদ্দিকী, কক্সবাজার (১৯২৭, গদ্য ও পদ্য উভয় রীতিতে)
১১. কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৯৩৩, শেষ পারা হা আমপারার কাব্য অনুবাদ)
১২. খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ, সাতক্ষীরা (১৯৪১)
১৩. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৪৬)
১৪. মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর উর্দুতে রচিত বয়ানুল কোরআনের বাংলা অনুবাদ, এমদাদিয়া লাইব্রেরী (১৯৬২)
১৫. ইসলামিক একাডেমি, ঢাকা (বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ), অনুবাদক : শামসুল ওলামা বেলায়েত হোসেন ও অন্যান্য (১৯৬৭)
১৬. হাকিম আব্দুল মান্নান (১৯৬৯)
১৭. মাওলানা নূরুর রহমান (১৯৭৪)
১৮. মোবারক করিম জওহর, পশ্চিমবঙ্গ (১৯৭৪)
১৯. জামাতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম আজম (১৯৭৫,মওলানা মওদুদীর উর্দু অনুবাদের বাংলা)
২০. এ কে এম ফজলুর রহমান মুন্সী, কুমিল্লা (১৯৭৭)
২১. মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (১৯৮০, পরে ১৯৯০ এর দশকে এই অনুবাদ সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত হয়েছিল)
২২. মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম (১৯৮০–১৯৮৭ এর মধ্যবর্তী সময়ে)
২৩. ড. মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান (১৯৮৮, পরে সৌদি আরবের দারুসসালাম পাবলিকেশন্স এই অনুবাদ প্রকাশ করে)
২৪. হাফিজ মুনির উদ্দীন আহমদ, আল কোরআন একাডেমি, লন্ডন
২৫. আলা হযরত আহমদ রেজার কুরআনের উর্দু অনুবাদ কানযুল ঈমানের বাংলা অনুবাদ (১৯৯৫, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান,গুলশানে হাবীব কমপ্লেক্স চট্টগ্রাম)
২৬. ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, খোশরোজ কিতাব মহল (১৯৯৭)
২৭. ঢাকার কেরানীগঞ্জ চুনকুটিয়ার সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী (১৯৯৯)
২৮. বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (১৯৯৯)
২৯. পান্না চৌধুরী (২০০৬)
৩০. মাওলানা আব্দুল হামিদ কাসেমীর কুরআনের পুঁথি অনুবাদ (২০০৬)
৩১. মুফতী মুহাম্মদ যাকারিয়া, মীনা বুক হাউস (২০১০)
৩২. শিয়া মুসলিমদের নুরুসসাকলায়েন জনকল্যাণ সংস্থা থেকে প্রকাশিত অনুবাদ
৩৩. মুফতি তাকী উসমানীর উর্দু অনুবাদের বাংলা অনুবাদ, মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (২০১০)
৩৪ . আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ, ড: মতিয়ার রহমান, কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (২০১২)
৩৫.ডঃ আবুবকর জাকারিয়ার অনুবাদ (২০১৩)
৩৬.তাইসীরুল কুরআন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (২০১৪)
৩৭. আল বায়ান ফাউন্ডেশনের অনুবাদ (২০১৫)
৩৮. তরজমায়ে শায়খুল হিন্দের বাংলা অনুবাদ
৩৯. হাফিজ সালাহউদ্দিন ইউসুফের উর্দু অনুবাদের বাংলা অনুবাদ (২০১৫)
৪০. মাওলানা আব্দুস শহীদ নাসিম (২০১৬–১৭)
৪১. দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুবাদ (২০১৩ থেকে ২০১৯ এর মধ্যবর্তী সময়ে অনুবাদটি করা হয়েছিল)
৪২. জহুরুল হক
৪৩. ড: বাবা জাহাঙ্গীর বা ঈমান / বেইমান সুরেশ্বরীর কোরানুল মাজীদ হুবহু অনুবাদ
৪৪. ‘সহজ কোরআন’, আসিফ সিবগাত ভূঞা (২০১৮)
৪৫. মাওলানা মুহাম্মদ মুসার অনুবাদ
৪৬. কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের শহীদ বোখারী মহাজাতকের অনুবাদ (আল কোরআন বাংলা মর্মবাণী)
৪৭.মুহিব খানের কাব্যানুবাদ (২০২০)
৪৮. মুফতি আবু উমামা কুতুবুদ্দিন মাহমূদ এবং মুফতি আব্দুল্লাহ শিহাব এর মহিমান্বিত কুরআন (২০২১)
৪৯. ডঃ তাহির উল কাদেরীর ইরফানুল কুরআনের বাংলা অনুবাদ মিনহাজ পাবলিকেশন্স বাংলাদেশ প্রকাশিত (২০২১)
৫০. সহজ বাংলা কুরআন, ইঞ্জিনিয়ার লে. কর্নেল এম আলাউদ্দীন (২০২৩)
৫১. শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী (২০২৩) এবং
৫২. রাজারবাগ দরবার মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ থেকে প্রকাশিত তরজমায়ে উম্মুল উমাম
ইংরেজি English : বর্তমানে ইংরেজি ভাষা বিশ্বের প্রধান ভাষা ও আন্তর্জাতিক ভাষা। উইকিপিডিয়ার আলোকে জানা যায় ইংরেজি ভাষায় এপর্যন্ত মোট ৮৮ টি কুরআনের অনুবাদ রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল তবে অন্যান্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী ১০০ টি অনুবাদ। এর মধ্যে অধিকাংশই সুন্নি মুসলিমদের অনুবাদ। এর পাশাপাশি ইংরেজিতে শিয়া মুসলিমদের মধ্য থেকে ১০ টি, আহলে কুরআনদের মধ্য থেকে ডঃ রাশাদ খলিফা সহ ৬ টি, কাদিয়ানী আহমদীদের ৬ টি, অমুসলিম বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকে ১২ টি অনুবাদ এবং ইন্ট্রাফেইথ বা মুসলিম ও অমুসলিম লেখকদের মিশ্র অনুবাদ ২ টি আছে। তন্মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ইংরেজি অনুবাদের নাম উল্লেখ করা হলো :
অমুসলিমদের রচিত অনুবাদ সমূহ
১. আলেকজান্ডার রস, Alexander Ross (The Alcoran,1649 AD ১৬৪৯ খ্রিঃ সাল )
২. জর্জ সেইল George Sail (The Koran, 1734, ১৭৩৪ খ্রিঃ সাল)
৩. ই এইচ পালমার, অক্সফোর্ড প্রেস, E.H. Palmer. Oxford: Clarendon Press (The Quran, 1880 AD ১৮৮০ খ্রিঃ)
৪. আর্থার জন আরবেরী, Arthur Arberry তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরবী ভাষা, ইসলাম ও সুফিবাদ বিষয়ে একজন পণ্ডিত ছিলেন । (The Koran Interpreted, 1955, ১৯৫৫ সাল)
৫. স্কটল্যান্ডের অ্যালান জনস, Alan Jones. Edinburgh (The Qur'an, 2007 ২০০৭ সাল)
মুসলিমদের মধ্য থেকে রচিত অনুবাদ সমূহ
মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম খান, পাতিয়ালা, পাঞ্জাব Mohammad Khan (The Holy Qur'an, 1905, ১৯০৫ সাল, মুসলিমদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম ইংরেজি অনুবাদ )
সুন্নি মুসলিমদের অনুবাদ :
১. দিল্লীর হায়রাত দেহলভী Hairat Dehlavi (The Koran. M. H. Press, 1916, ১৯১৬ সাল)
২. মর্মাডিউক পিকথলী Muhammad Marmaduke Pickthall (The Meaning of the Glorious Koran, 1930 ১৯৩০ সালে প্রকাশিত)
৩. আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী Abdullah Yusuf Ali (The Holy Quran, 1934 ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত)
৪. লাহোরের মুহাম্মদ আকবর Muhammad Akbar, মওলানা মওদুদীর অনুবাদ প্রথম ইংরেজিতে তিনি প্রকাশ করেন (The Meaning of the Qur'an ১৯৬৭)
৫.মুহাম্মদ আসাদ Muhammad Asad (The Mesage Of Quran , 1980 , ১৯৮০ সালে প্রকাশিত )
৬.আহমেদ আলী Ahmed Ali, Princeton (Al-Qur'an: A Contemporary Translation. Princeton University Press, 1988 , ১৯৮৮)
৭.সহীহ ইন্টারন্যাশনাল Sahih International (The Holy Qur'an. Jeddah , 1997 )
৮.আব্দুল হক বিউলী ও আয়িশা বিউলী Abdalhaqq Bewley and Aisha Bewley.(The Noble Qur'an: A New Rendering of Its Meaning in English ,Madinah Press London, 1999)
৯.শায়খ তকিউদ্দিন হিলালী ও ড: মুহসিন খান Hilali and Khan (The Noble Quran,1999)
১০. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাজিদ ফাখরী Majid Fakhry (An Interpretation of the Qur'an , New York , 2000)
১১. এম এ এস আব্দেল হালিম M.A.S. Abdel-Haleem (The Qur'an (Oxford World Classics) Oxford University Press, 2004 )
১২. পাকিস্তানের মাওলানা করম শাহ আজহারী Maulana Karam Shah Azhari (Jamal Ul Qur'an (The Beauteous Qur'an) , Zia Ul Quran Publications , Pakistan , 2004)
১৩. পাকিস্তানের মুফতি তাকী উসমানি Mufti Taqi Usmani (The Meanings of the Noble Qur'an , Pakistan , 2007)
১৪.শায়খ ডঃ আল্লামা তাহির উল কাদেরী (Irfan Ul Quran , Pakistan , 2009 & 2011)
১৫.
১৫. ভারতের মাওলানা ওয়াহিদ উদ্দিন খান Maulana Wahiduddin Khan (Tazkirul Quran Commentary of The Quran, 2012)
১৬. তালাল ইতানি Talal Itani (
১৭.আলা হযরত আহমদ রেজার কুরআনের উর্দু অনুবাদ কানযুল ঈমান এটি ইংরেজিতে অনেকবার অনেকেই অনুবাদ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো :
i. পাকিস্তানের প্রফেসর শাহ ফরিদুল হক Shah Faridul Haque. (1988)
ii. আক্বিব ফরিদ কাদেরী Aqib Farid Qadri (2003 & 2014)
iii. দক্ষিণ আফ্রিকার মাওলানা হুসাইন মুকাদ্দাম Mawlana M. Husain Mukaddam (2012) ও
iv. দক্ষিণ আফ্রিকার মরহুম মুফতি আব্দুন নবী হামিদী Mufti Abdun Nabi Hamidi (2019)
১৮. মিশরীয় বংশোদ্ভূত ড মুস্তফা খাত্তাব Dr Mustafa Khattab (The Clear Quran, 2015)
১৯. ড: সৈয়দ জুমা সালাম Sayed Jumaa Salam(Noor Al Bayan, 2018)
২০. ব্রিটেনের মুশাররফ হোসাইন আজহারী Musharraf Hussain Azhari (The Majestic Quran: A Plain English Translation, 2018)
২১. সিরিয়া বংশোদ্ভূত ড: আদিল সালাহী Adil Salahi (The Qur'an: A Translation for the 21st Century,USA, 2019)
২২. ব্রিটেনের তাহির মাহমুদ কিয়ানী Tahir Mamood Kiani (The Easy Quran: A Translation in Simple English, 2022)
২৩. শায়খ নুহ হা মীম কেলার Nuh Ha Mim Keller (The Quran Beheld: An English Translation from the Arabic, 2022)
২৪. ভারতের মাওলানা ওয়াহিদউদ্দিন খানের ছেলে জাফরুল ইসলাম খানের রচিত অনুবাদ Zafarul-Islam Khan (The Glorious Quran - English Translation with annotations based on earliest authoritative sources, 2023) এবং
২৫. SureQuran সিউর কুরআন যা তালাল ঈটানি ও এ আই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স) এর সমন্বয়ে করা প্রথম অনুবাদ।
শিয়া মুসলিমদের মধ্য থেকে করা অনুবাদ :
১. ভারতের এলাহাবাদের মির্জা আবুল ফজল Mirza Abul Fazal (1911)
২. মুহাম্মদ হাবিব শাকির Habib Shakir (1968)
৩. মুহাম্মদ সারওয়ার Muhammad Sarwar (1981)
৪. ভারতের এস ভি মীর আহমদ আলী Syed V Mir Ahmed Ali (1988)
৫. ইরানের তাহেরে সাফফারজাদেহ (2001)
৬. ইরানের আলী কুল্লি কারাঈ ( ২০০৫)
৭. যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর লালেহ বা খতিয়ার এবং
৮. ব্রিটেনের ড সৈয়দ আমজাদ এইচ নকভী
উর্দু Urdu : উপমহাদেশে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় থেকে বর্তমান যুগপর্যন্ত উর্দু ভাষায় কুরআনের সবচেয়ে বেশি অনুবাদ ও তাফসির হয়েছে। ধর্মীয় চর্চা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে এই অঞ্চলে উর্দু ভাষার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। উর্দু ভাষায় বিভিন্ন মত ও পথের সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কুরআনের শত শত অনুবাদ রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। উইকিপিডিয়ার আলোকে জানা যায় ১৭৭০ খ্রিঃ সাল থেকে বর্তমান এই সময় পর্যন্ত একশো'র বেশী উর্দু অনুবাদ রচিত প্রকাশিত হয়েছিল। সুন্নি, সুন্নিদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ধারা, দেওবন্দী, বেরলভী ও অন্যান্য সুফি প্রভাবিত ঘরানা, জামাতে ইসলামী, ফারাহী ও ইসলাহী ঘরানা, মডার্নিস্ট, এর পাশাপাশি শিয়া, আহলে কুরআন ও কাদিয়ানী আহমদী সম্প্রদায়েরও নিজ নিজ চিন্তাধারা মতাদর্শ অনুযায়ী কুরআনের উর্দু অনুবাদ রচিত হয়েছিল।
সুন্নিদের মধ্যে সর্বপ্রথম উর্দু অনুবাদ শাহ মুরাদুল্লাহ আনসারী, শাহ আব্দুল কাদির দেহলভী, আহলে হাদিস সালাফী ঘরানার মধ্যে সর্বপ্রথম ১৮৬৬ খ্রিঃ সালে নবাব সিদ্দিক হাসান খান, দেওবন্দী ঘরানার মধ্যে উর্দু ভাষায় সর্বপ্রথম ১৮৮৮ খ্রিঃ সালে মাওলানা আব্দুল হক হাক্কানী, বেরলভী ঘরানার মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯১১ সালে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা বেরলভী (কানযুল ঈমান), আহলে কুরআনদের মধ্যে উর্দু ভাষায় সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে লাহোরের আব্দুল হাকিম পাটিয়ালভী, পরে আসলাম জয়রাজপুরী ও ১৯৪৪ সালে গোলাম আহমেদ পারভেজ কুরআনের অনুবাদ করেন। কাদিয়ানী আহমদী সম্প্রদায়ের মধ্যে উর্দুতে মীর মুহাম্মদ সা'ঈদ, মীর মুহাম্মদ ইসহাক ও অন্যান্যরা কুরআনের অনুবাদ করেন। তবে আহলে কুরআন ও কাদিয়ানীদের অনুবাদ গুলো অনেক বিতর্কিত। এখানে সুন্নি ও শিয়া মুসলিমদের রচিত ও প্রকাশিত উর্দু ভাষায় কুরআনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদের তালিকা দেওয়া হলো।
সুন্নি :
১. শাহ মুরাদুল্লাহ আনসারীর অনুবাদ যা ইতিহাসের আলোকে প্রথম উর্দু অনুবাদ (১৭৭০ থেকে ১৭৭৮ এর মধ্যবর্তী সময়ে, দিল্লী)
২. শাহ রফিউদ্দিন দেহলভী (১৭৮৫–১৭৯০ খ্রি:)
৩. শাহ আব্দুল কাদির দেহলভী রহঃ এর মুজিহুল কুরআন (১৮২৬ খ্রি:, দিল্লী)
৪. মাওলানা এহতেশাম উদ্দিন (১৮৬০ খ্রিঃ, দিল্লী)
৫. মাওলানা নবাব সিদ্দীক হাসান খান ( ১৮৬৬ খ্রিঃ, ভোপাল, আহলে হাদিসদের মধ্যে প্রথম উর্দু অনুবাদ)
৬. মাওলানা আব্দুল হক হাক্কানী দেহলভী ( ১৮৮৮–১৯০০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, দেওবন্দী কওমী ঘরানার প্রথম উর্দু অনুবাদ)
৭. মাওলানা আশিক এলাহী মিরাঠী (১৯০২)
৮. শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী ও তার তরজমায়ে শায়খুল হিন্দ (১৯০৯ সালে রচনা শুরু হয় ও পূর্ণাঙ্গভাবে সর্বপ্রথম ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল)
৯. আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান বেরলভী ও তার তরজমায়ে কানযুল ঈমান (১৯১১ সাল, বেরলভী ঘরানার প্রথম অনুবাদ, বেরেলী)
১০. দেওবন্দী ঘরানার মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (১৯২০ সাল)
১১. আহলে হাদিসদের মাওলানা মুহাম্মদ জুনাগড়ী (১৯২৫, দিল্লী)
১২. মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী ( ১৯২৮)
১৩. ফতেহ মুহাম্মদ জালান্ধরী (১৯৩৮, লাহোর)
১৪. জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী ও তার তাফহীমুল কুরআন (১৯৪১, লাহোর, ১৯৪৭ এ উপমহাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তান হওয়ার পরেই এটা আবার প্রকাশিত হয়েছিল )
১৫. বেরলভী ঘরানার মাওলানা পীর করম শাহ আযহারি ও তার জিয়াউল কুরআন (১৯৫৫, লাহোর, পাকিস্তান)
১৬. মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী ও তার তাদাব্বুরে কুরআন (১৯৬১, পাকিস্তান)
১৭. মাওলানা আব্দুর রহমান কিলানী (১৯৬৬,পাকিস্তান, আহলে হাদিস আলেম)
১৮. দেওবন্দী ঘরানার মুফতী মুহাম্মদ শফী রহঃ (পাকিস্তান, ১৯৬০–৭০ এর দশকের মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়)
১৯. বেরলভী ঘরানার মুহাম্মদ হুসাইন ক্বাদেরী (১৯৮৫, করাচী, পাকিস্তান)
২০. সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স থেকে প্রকাশিত উর্দু অনুবাদ (প্রথমে ১৯৯০ এর দশকে তরজমায়ে শায়খুল হিন্দ এর অনুবাদ সেখান থেকে প্রকাশিত হয় ও পরে আহলে হাদিস আলেম।মাওলানা জুনাগড়ীর অনুবাদ হাফিজ সালাহউদ্দিন ইউসুফের তাফসীর সহ প্রকাশিত হয়েছিল)
২১.ভারতের মাওলানা ওয়াহিদউদ্দিন খানের তাজকিরুল কুরআন (প্রথমে ১৯৮৫ সালে ও পরে ২০০১–২০১০ এর সময়ে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছিল)
২২.বেরলভী ঘরানার মাওলানা আহমদ সাঈদ কাজেমীর "আল বায়ান মা'আ তারজুমা "
২৩. দেওবন্দী ঘরানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মুফতি তাকী উসমানী ও তার আসান তরজুমায়ে কুরআন (১৯৯৮ সাল)
২৪. মরহুম ড: ইসরার আহমেদ ও তার বয়ানুল কুরআন আসান তরজুমায়ে কুরআন
২৫. ড: জাভেদ আহমেদ গামিদী ও তার কুরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর " আল বায়ান " (২০০১ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়)
২৬. শায়খ ড: তাহির উল কাদেরী ও তার কুরআনের অনুবাদ ইরফানুল কুরআন (২০০৫ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল)
২৭. মরহুম মাওলানা ইউসুফ মোতালার আদওয়া আল বায়ান ফী তরজমাতুল কুরআন
২৮. আমীর মুহাম্মদ আকরাম আওয়ানের "আকরাম উত তারাজীম" (২০১১) এবং
২৯. দাওয়াতে ইসলামীর মাওলানা মুফতি কাসিম আত্তারীর কানযুল ইরফান
শিয়া অনুবাদ :
১. সৈয়দ ইব্রাহিম (১৮২৪–২৫ খ্রি:, মাতবা'আ মৌলভী বাকার, দিল্লী, শিয়াদের মধ্যে উর্দুতে সর্বপ্রথম কুরআনের অনুবাদ)
২. ইমদাদ আলী লখনৌভি ও তার "সাবিত নামা" (কুরআনের অনুবাদ) (১৮৫৭ এর আগে অবিভক্ত ভারতের লখনৌ থেকে প্রকাশিত)
৩. মুহাম্মদ হুসাইন কুলি কানপুরী ও তার তরজুমায়ে কুরআন (১৮৮৫ খ্রি:, লখনৌ)
৪. হাফিজ সৈয়দ ফরমান আলী শাহ নাজাফী ও তার অনুবাদ কুরআনুল হাকীম (সর্বপ্রথম ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, পরে পাকিস্তান থেকেও ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে এটা প্রকাশিত হয়েছিল)
৫. মকবুল দেহলভী (১৯১৩,দিল্লী)
৬. খাজা ফাইয়াজ হুসাইন (১৯৩২)
৭. সৈয়দ মুহাম্মদ সাদিক (১৯৬৫, পাকিস্তান)
৮. মুজাওওয়ার হুসাইন রিজভী ও তার তারজুমায়ে কুরআন (১৯৭২)
৯. মুহাম্মদ হুসাইন নাজাফী ও তার কুরআনের অনুবাদ
১০. আল্লামা জিশান হায়দার জাওয়াদী ও তার আনওয়ার উল কুরআন (১৯৮৬–১৯৮৭)
১১. আল্লামা মোহসিন আলী নাজাফী ও তার তরজুমা কুরআন কারীম (২০০১–০২)
২২. মুহাম্মদ হাসান আমরোহী ও তার তরজুমায়ে কুরআন
ফারসি ভাষা :
ফারসি (পার্সি/দারি) ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন অনুবাদ-ঐতিহ্যগুলোর একটি। আরবির পর ফারসিই ছিল এমন একটি ভাষা যাতে খুব প্রাথমিক যুগ থেকেই কুরআনের অর্থ অনুবাদ ও তাফসির রচিত হয়। উপমহাদেশ, আফগানিস্তান ও ইরানের বহু আলেম—সুন্নি ও শিয়া উভয় ধারার—এতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত আছে যে হযরত সালমান আল-ফারসি রাঃ ফারসিভাষীদের জন্য সূরা আল-ফাতিহার অর্থ ফারসিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন।দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতকে খোরাসান ও মাওয়ারাউননাহরে মৌখিকভাবে কুরআনের অর্থ ফারসিতে ব্যাখ্যা করার প্রচলন ছিল।চতুর্থ হিজরি (১০ম খ্রিস্টাব্দ) শতকে নূহ ইবন মানসুর-এর আমলে আলেমদের উদ্যোগে ফারসিতে পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও তাফসির রচনার নতুন ধারা শুরু হয়।
এই সময়কে ফারসি কুরআন অনুবাদের প্রকৃত সূচনা হিসেবে অধিকাংশ গবেষক বিবেচনা করেন। এপর্যন্ত ফারসি ভাষায় কুরআনের মোট ৬০ টি অনুবাদ আছে বলে জানা যায়। এখানে সুন্নি ও শিয়াদের কিছু ফারসি অনুবাদের নাম তালিকা দেওয়া হলো :
১. কুরআন কুদস (১০ম শতাব্দীর আগে রচিত)
২.আবুল ফজল রশিদুদ্দীন মাইবুদী, সুন্নি (১১২৬ খ্রি:)
৩. মখদুম জাহাঙ্গীর আশরাফ সিমনানী,সুন্নি (ভারতীয় উপমহাদেশ)
৪. শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, সুন্নি (ভারতীয় উপমহাদেশ)
৫.ইলাহি কুমশেই ,শিয়া ( ১৯৫৭)
৬.মুহাম্মদ মাহদি ফুলাদভান্দ ,শিয়া (১৯৯৪)
৭.নাসের মাকারেম শিরাজি, শিয়া (১৯৯৫)
৮.মুহাম্মদ কাজেম মোয়েজ্জি ,শিয়া (২০শ শতক)
৯.মুহাম্মদ আলী আনসারিয়ান ,শিয়া ( ২০০০-এর দশক)
১০. তাহের সাফফারজাদেহ, শিয়া (২০০১)
১১. মালিক ফাহাদ কাউন্সিল, সুন্নি
১২. আনোয়ার বাদাখশানী (আফগানিস্তান)
১৩. আব্দুল কাদির কাবুলী (আফগানিস্তান)
এই ৪ ভাষার পাশাপাশি তুর্কি ভাষায় এপর্যন্ত কুরআনের ১৫০–২০০ টি অনুবাদ, ইন্দোনেশিয় ভাষায় ৬০ টি অনুবাদ, মালয়েশিয়ান ভাষায় ৪০ টি অনুবাদ, হিন্দি ভাষায় ৪০ টি, তামিল ভাষায় ২৫ টি, পাঞ্জাবী ভাষায় ২০–৩০টি, গুজরাটি ভাষায় ৩০ টি, অসমীয়া ভাষায় ৮–১০ টি সিংহলী ভাষায় ৩ টি, পশতুন ভাষায় ২০ টি, বেলুচি ভাষায় ৫ টি, সিন্ধি ভাষায় ৪০ টি, কাশ্মীরি ভাষায় ৮–১০ টি অনুবদ, বার্মিজ ভাষায় ১৫ টি, আরাকান ভাষায় ৩ টি, রোহিঙ্গা ভাষায় ৫ টি, আজেরী ভাষায় ৩০টি, কাজাখ ও উজবেক ভাষায় ৩০ টি, কুর্দি ভাষায় ৩৫ টি অনুবাদ, চাইনিজ বা চীনা ভাষায় ৩০ টি, জাপানি ভাষায় ১০ টির মতো, কোরিয়ান ভাষায় ৩ টি, ফরাসী ভাষায় ৮০ টি, স্প্যানিশ ভাষায় ২৫–৫০ টি, হাউসা ভাষায় ১০ টি ও সোয়াহিলী ভাষায় ২০ টি সহ অন্যান্য ভাষায় কুরআনের বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
(চলবে...)

Comments

Popular posts from this blog

কাশফুল মাহযুব Kashful mahzub pdf

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কাশফুল মাহযুব হল হযরত দাতা বখশ হাজভেরী রহঃ এর অন্যতম গ্রন্থ । এর বাংলা হল মারেফতের মর্মকথা । বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে রশিদ বুক হাউজ । মূল বইটি ফারসি ভাষায় লিখিত । download this book in bangla : kashful mahzoob in bangla Kashful mahzoob is a book which is written by data ali hazveri rh.  Kashful Mahjoob  was originally written in Persian language by Hazrat Daata Ganj Bakhsh Ali Hajveri but then translated into many other languages as well including Urdu. Complete name of Hazrat Daata Sahab is ‘Abul Hassan Ali Ibn Usman al-Jullabi al-Hajveri al-Ghaznawi’. The book is a master piece in Islamic Sufi genre. Daata Ali Hajveri has written many books but this book has become a symbol in Sufi books. A famous saying about this book is ‘if you want to find a true murshad (spiritual guider) for you then read this book and you will definitely find one’. Download in english   https://ia601901.us.archive.org/21/items/KashfulMahjoobEn/KashfulMah...

নিলামে ফিলিস্তিন ( যেভাবে ফিলিস্তিন ঔপনিবেশিক শক্তির নিকট বিক্রি হয়ে যায়) ইয়াসির আরাফাত হিন্দী আশআরীর লেখনী (১ম পর্ব)

  বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিরাট এক পরিবর্তন আসে। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে খলিফাতুল মুসলিমিন সুলতান আবদুল হামিদ খান আস-সানির অপসারণের পর উসমানি সাম্রাজ্য অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সংকীর্ণ থেকে সংকীর্ণতর হয়ে পড়ে খিলাফতের সীমারেখা। এরপর ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের মুসলিম জাহানের সর্বশেষ খিলাফত উসমানি খিলাফতের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমবিশ্বের মানচিত্র সম্পূর্ণরূপে বদলে যায়। ইউরোপ সীমান্ত থেকে নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া জুড়ে সুবিস্তৃত মুসলিম খিলাফত ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আরব জাহান পরিণত হয় ব্রিটিশ অথবা ফ্রেঞ্চ কলোনিতে। ক্রমশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকে মুসলিম সাম্রাজ্য। পিতৃহারা কৃশকায় সন্তান যেমন ভবলেশহীন জনাকীর্ণ পথের এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়, মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে বেড়ায়, তেমনি খলিফা নামক মাথার ছাতাটি সরে যাওয়ার ফলে মুসলিম উম্মাহ পিতৃহারা ও দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সেই মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার করে শত্রুরা তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করে, ঠিক যেমনভাবে ক্ষুধার্ত পশুরা খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখন আর মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ রইল না। আরব ও মুসলিম বিশ্বকে দাস...

নজিরবিহীন ইসকন কান্ড:প্রসাদ খাইয়ে চট্টগ্রামের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ (কিছু কথা)

নজিরবিহীন ইসকন কান্ড:প্রসাদ খাইয়ে চট্টগ্রামের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ (কিছু কথা) আসসালামু আলাইকুম  । আজকে চেষ্টা করছি একটি বিষয় নিয়ে আমার এই ব্লগে কথা বলার।প্রথমে এখানে দৈনিক ইনকিলাবের ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবারের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের কিছু অংশ দেওয়া হলো : "স্কুলে  স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সিটি কর্প...